কল্পনার গল্প থেকে বাস্তবকে আলাদা করুন
যদি আপনার এমন কোনো গল্প চোখে পড়ে যা আপনার পক্ষে বিশ্বাস করা কঠিন তাহলে, কোনো তথ্য পরীক্ষাকারী ওয়েবসাইট দেখুন। এমন অনেক সাইট রয়েছে যা বিশেষভাবে অনলাইন স্টোরি বা গল্প যাচাই করা, ছলচাতুরী প্রকাশ করা এবং দাবির উৎস ও সত্যতার বিষয়ে গবেষণা করার উপর জোর দেয়। এই সাইটগুলো যে সবসময় সঠিক হয়, তা নয়। তবে আপনি এগুলোর সাহায্যে তথ্য যাচাই করা শুরু করতে পারেন, কারণ এগুলো প্রায়ই অনলাইন দাবি সম্পর্কে দ্রুত তথ্য আপডেট করে। সেরা সাইটগুলো "তাদের কাজ দেখানোর" জন্য ভালো কাজ করে এবং সেগুলো সচরাচর ভুল হয় না। অনলাইনে শেয়ার করা কোনো গল্প বা ঘটনা সত্যি কি না, তা যাচাই করার জন্য এমন এক বা একাধিক ওয়েবসাইটের পরামর্শ নেওয়া দ্রুত আর সহজ উপায় হতে পারে অথবা কমপক্ষে সেটি কোনো সুস্পষ্ট অসঙ্গতি আছে কি না তা আপনাকে জানাতে পারে।
অনলাইনে কনটেন্টের সত্যতা মূল্যায়ন করার সময় তথ্যের রিপোর্টিং বা তথ্য জানানো এবং সম্পাদকীয় কলামের মধ্যে পার্থক্য বোঝাও গুরুত্বপূর্ণ। "রিপোর্টিং" বলতে এমন খবর বোঝায় যে খবরে, ঘটনা সম্পর্কিত তথ্য যেভাবে পাওয়া যায় অতিরিক্ত মতামত ছাড়াই, হুবহু সেভাবে বর্ণনা করা হয়। অন্যদিকে, "সম্পাদকীয়" কলাম তথ্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে বিশ্লেষণ আর মতামতকে তুলে ধরে। এতে চিন্তা করার কোনো কারণ নেই – এটি আমাদের প্রসঙ্গ আর জটিল তথ্য আরও ভালো ভাবে বুঝতে সাহায্য করতে পারে। কোনো বিষয়ে দেখার সময় আমাদের শুধু এই পার্থক্য বুঝতে হবে। আপনি আর আপনার কিশোর বয়সি সন্তান একসাথে, যে ব্যক্তি সম্পাদকীয় কলাম লিখেছেন তার তথ্য ও অধিকার পরীক্ষা করে দেখতে পারেন এবং সিদ্ধান্ত নিতে পারেন যে কোনটি বেশি বিশ্বাসযোগ্য। সেই ব্যক্তির নির্ভুলতার ইতিহাস কেমন? তিনি অতীতে ভুল তথ্য দিয়েছেন, এমন কোনো প্রমাণ আছে কি না? যদি তাই হয় তাহলে, তিনি কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন? তিনি যা বলছেন, তাতে তার/সেই উৎসর কোনো ক্ষতি বা লাভ হবে কি?
বুদ্ধির কৌশল সম্পর্কে সচেতন হোন
এটা বুঝতে হবে যে আমাদের মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট মতামত বিশ্বাস করার জন্য প্রায়শই সুপ্ত আর দৃঢ় প্রবণতা থাকে। এটিকে জ্ঞান ভিত্তিক পক্ষপাত বলা হয়। মনস্তাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা গেছে, যেমন, লোকেরা কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে প্রথমে যে তথ্য পান, তাদের তা বিশ্বাস করার প্রবণতা থাকে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে, সেটি মেনে নেওয়া তখন আরও কঠিন হয়ে ওঠে। এছাড়াও, আমরা নিজেদের আগে থেকে করা বিশ্বাসের সাথে সামঞ্জস্য পাওয়া যায় এমন বা একমত হওয়া যায় এমন উৎসের উপর বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকি। এর ফলে, আমরা যখন কোনো কিছুকে সত্যি বলে বিশ্বাস করি, তখন আমরা প্রায়শই সেটির প্রমাণ খোঁজা বন্ধ করে দিই। একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ গবেষণার মাধ্যমে কারোর দৃষ্টিভঙ্গির সমর্থনে প্রমাণ খোঁজাই মূল কাজ নয়, বরং বিপরীত প্রমাণ খোঁজার বিষয়েও সচেতন হওয়া দরকার।
এমনকি ভালো উদ্দেশ্য থাকা একজন সোশ্যাল মিডিয়া ইউজার যিনি সক্রিয়ভাবে কোনো প্রাসঙ্গিক উদ্বেগের বিষয়ে আরও তথ্য খুঁজছেন, তিনিও শেষ পর্যন্ত অন্য কোনো সাধারণ জ্ঞান ভিত্তিক পক্ষপাতের শিকার হতে পারেন: যার একটি হচ্ছে তথ্যের অভারলোড বা অত্যাধিক তথ্য পাওয়া। আমাদের মস্তিষ্ক যতটা তথ্য প্রক্রিয়া করতে পারে, তার বেশি তথ্য পেলে আমরা যা চাই তার বিপরীতও হতে পারে। যেমন, আগে থেকে মনে মনে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া থাকলে, সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরতে আমাদের সমস্যা হয়। আপনি যদি Amazon-এ TV সম্পর্কে রিভিউ পড়তে খুব বেশি সময় কাটান তাহলে, আপনি কখনই “এখনই কিনুন” বোতামটিতে ক্লিক করবেন না। আমরা শুনেছি চিন্তাশীল লোকেরা পুরানো প্রবাদ মেনে চলেন, "আমি জানি না এখন আর কীসে বিশ্বাস করব।" এমন ক্ষেত্রে, আপনার কিশোর-কিশোরী সন্তানকে বিরতি নিতে বলুন এবং পরে আবার ঠাণ্ডা মাথায় সেই প্রশ্নে বা প্রসঙ্গে ফিরে আসতে বলুন।
অনলাইন কনটেন্টের সত্যতা মূল্যায়নের কিছু পরামর্শ
- ফ্যাক্ট চেকিং বা তথ্য পরীক্ষার ওয়েবসাইটের পরামর্শ নিন
- উৎসের অতীত ইতিহাসের ভিত্তিতে নির্ভরযোগ্যতা বিবেচনা করুন
- যা বলা হচ্ছে, সেটি আপনার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা দিয়ে তুলনা করুন
- প্রতিবেদকের সম্ভাব্য পক্ষপাত/দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে জানুন
- চরম দৃষ্টিভঙ্গি আর অস্বাভাবিক দাবি সম্পর্কে সন্দিহান হন
100% নিশ্চিত হওয়াটা লক্ষ্য নয়
ব্যবহার, বিশ্লেষণ এবং কাজ করার জন্য অনলাইনে প্রচুর তথ্য থাকে। কোনো দাবি শুনেই তা সত্য বলে গ্রহণ করলে, তাতে সমস্যা হতে পারে এবং বিপদ হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। যে সব দাবি করা হচ্ছে তা সাবধানে বিবেচনা করার জন্য সময় নিলে তাতে সুফল পাওয়া যায় এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে চালিত বিশ্বের ক্ষেত্রে এটি একটি প্রয়োজনীয় বিষয়। কিছু ক্ষেত্রে আমাদের উপলভ্য সব তথ্যের ভিত্তিতে আমরা কাকে এবং কী বিশ্বাস করি, সেই সম্পর্কে একটি স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এই পরামর্শগুলোর সাহায্যে, আপনি ও আপনার কিশোর-কিশোরী সন্তান আপনাদের বিচার-বিবেচনা ব্যবহার করা অনুশীলন করে সজ্ঞানে সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।