ডিপফেক কী?
"ডিপফেক" (অর্থাৎ, "ডিপ লার্নিং + ফেক") শব্দটির উৎপত্তি মনে হয় তখন থেকে হয়েছে, যখন অনলাইনে ইউজাররা তাদের কমিউনিটিতে একে অপরের সাথে সেলিব্রিটিদের নকল পর্নোগ্রাফি শেয়ার করা শুরু করেছিলেন। আর এমন ফটো বা ভিডিও তৈরি করার জন্য, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সফ্টওয়্যার ব্যবহার করা হয়, যা দিয়ে ঠিক আসলের মতোই দেখতে মিথ্যা কনটেন্ট (যেমন, ফটো ও ভিডিও) তৈরি করা যায়। মুখের মূল ফিচার ও শারীরিক ভাষা/অঙ্গভঙ্গির প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কনটেন্ট (যেমন, কোনো ব্যক্তির বহু ঘণ্টার ভিডিও, হাজার হাজার ছবি) বিশ্লেষণ করতে কম্পিউটিংয়ের ক্ষমতা ব্যবহার করে লার্নিং মডেল তৈরি করা হয়।
এরপর, লার্নিং মডেলের সাহায্যে যা শেখা হয় তা ম্যানিপুলেট বা কারসাজি করতে চাওয়া ছবি/ফ্রেমে অ্যালগরিদমিক্যালি প্রয়োগ করা হয় (যেমন, আসল কনটেন্টের উপর ঠোঁটের নড়াচড়া সুপারইম্পোজ করা (এবং শব্দ ডাব করা অর্থাৎ অন্য কোনো শব্দ বা ভাষা ব্যবহার করা), যাতে মনে হয় যে কনটেন্টে দেখানো ব্যক্তি এমন কিছু বলছেন যা তিনি আসলে কখনই বলেননি)। অতিরিক্ত কৌশল যেমন আর্টিফ্যাক্ট যোগ করা (যেমন, স্বাভাবিক বা আনুষঙ্গিক মনে করানোর জন্য "গ্লিচিং বা সামান্য ত্রুটি" যোগ করা) বা বাস্তব বিষয়কে আরও সুন্দর বা ভালো করার জন্য মাস্কিং/এডিটিং ব্যবহার করা হয় এবং তার ফলে প্রোডাক্টকে আশ্চর্যজনকভাবে বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হয়। ওয়েবসাইটে ডিপফেকের উদাহরণ খুঁজে দেখলে আপনি অবাক হতে পারেন, যে সেগুলোকে আপনার খুব খাঁটি বলে মনে হচ্ছে। নিচে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জানানো হয়েছে, যার সাহায্যে আপনার সন্তানকে যে কোনো সম্ভাব্য ডিপফেকের শিকার হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারেন এবং কীভাবে মিথ্যা ঘটনা থেকে সত্যি ঘটনা আলাদা করতে হয় তা তাকে শেখাতে পারেন।
কীভাবে ডিপফেক চিহ্নিত করবেন
প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে ডিপফেকও যেহেতু ক্রমশই বাস্তবসম্মত হয়ে উঠছে, তাই তা শনাক্ত করার সময় প্রায়শই ফটো বা ভিডিও কনটেন্টের কিছু তথ্য সতর্কভাবে দেখা হয় (যেমন, চোখের পলক স্বাভাবিকভাবে না পড়া)। জুম করে মুখ, ঘাড়/কলার বা বুকের চারপাশে অস্বাভাবিক বা ঝাপসা প্রান্ত আছে কি না, তা খুঁজে দেখলে সেটা খুব ভালো করে বোঝা যেতে পারে। অধিকাংশ সময়, এই সব জায়গাতেই আসল কনটেন্ট আর সুপারইম্পোজ করা কনটেন্টের মধ্যে অসঙ্গতি ও অমিল দেখা যায়।
ভিডিওর ক্ষেত্রে, ভিডিও ক্লিপের গতি কম করে কথা বলার সময় ঠোঁটের স্বাভাবিক নড়াচড়া বা ভিডিওর স্বাভাবিক ঝাঁকুনির মতো কিছু দৃশ্যগত অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যেতে পারে। এছাড়াও, ভিডিওর কোনো অংশে আবেগের অভাব দেখা যাচ্ছে কি না, তা নজর রাখুন। যেমন, ভিডিওতে কোনো কথা বলার অংশে সঠিক আবেগ না থাকা, কোনো শব্দের ভুল উচ্চারণ হচ্ছে বলে মনে হওয়া বা অন্য কোনো অদ্ভুত অসঙ্গতি দেখতে পাওয়া। সব শেষে, ফটোতে (বা ভিডিওর স্ক্রীনশটে) 'রিভার্স ইমেজ সার্চ' পদ্ধতি ব্যবহার করলে জানতে পারবেন যে মূল ভিডিও পরিবর্তন করার আগে তা কেমন ছিল। তা করার সময়, কোন অংশ ম্যানিপুলেট বা কারসাজি করা হয়েছে তা বুঝতে কনটেন্টের দুটি অংশ সতর্কতার সাথে তুলনা করুন। এই পরামর্শগুলোর মূল বিষয় হলো, নিজের অনুভূতির উপর ভরসা রাখা; কারণ কোনো বিষয়বস্তু ধীরে খুব মনোযোগ দিয়ে দেখলে ও শুনলে, কোনো ভুল থাকলে সাধারণত তা ধরা যায়।
কিশোর-কিশোরীদের মনে করিয়ে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ যে তারা অনলাইনে যা পোস্ট করেন তা ডিপফেক তৈরি করতে ব্যবহার করা হতে পারে। যেমন, তার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে তিনি কনটেন্টের লাইব্রেরি তৈরি করলে, অন্যরা তার সম্মতি ছাড়াই তা অ্যাক্সেস ও ম্যানিপুলেট করতে পারেন। তার মুখ, মুখের নড়াচড়া, কণ্ঠস্বর ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্যগুলো অন্য কেউ তার অনুমতি ছাড়াই ব্যবহার করতে পারেন এবং তারপর অন্য কোনো অনুরূপ চেহারার উপর তা প্রয়োগ করতে পারেন, এমন কারোর উপর যার আচরণ তার সুনামের ক্ষেত্রে যথেষ্ট ক্ষতিকর হতে পারে। এই বিষয়ে কথা বলার জন্য এখানে কিছু প্রশ্ন রয়েছে, যা তাকে কোনো রকম বিচার না করে আর তিনি যে উপায়ে বুঝতে পারবেন, সেই ভাবে তাকে জিজ্ঞাসা করা যেতে পারে:
ডিপফেকের কারণে কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষা বিপন্ন হতে পারে এবং এর সাহায্যে অন্য কেউ তাদের আবেগ সংক্রান্ত, মানসিক ও সুনামের ক্ষতি করতে পারেন। যেক্ষেত্রে আমরা চোখে দেখে ও কানে শুনেও সাময়িক অসঙ্গতি ধরতে পারি না, সেক্ষেত্রে সফ্টওয়্যারকে ছবি বা ভিডিও কনটেন্টে যে কোনো অসঙ্গতি শনাক্ত ও চিহ্নিত করতে উন্নত করা হচ্ছে। এই প্রযুক্তিগুলো উন্নতি চলাকালীন, অল্পবয়সী ছেলেমেয়েদের মা-বাবা, তত্ত্বাবধায়ক ও প্রাপ্তবয়স্ক অন্যান্য পরিচর্যাকারীদের অবশ্যই ডিপফেকের বাস্তবতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং ডিপফেক তৈরির ও বিতরণের পরিণতি আটকাতে কাজ করতে হবে। একইসাথে, নিয়মিতভাবে আপনার কিশোর-কিশোরী সন্তানকে আশ্বস্ত করুন যে তিনি কোনো ডিপফেক সংক্রান্ত পরিস্থিতিতে পড়লে (এবং অবশ্যই, অন্য যে কোনো অনলাইন ক্ষতির সম্মুখীন হলে), সাহায্য করার জন্য আপনি সবসময় তার সাথে আছেন।
- আপনি কি এমন কিছু লোকের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট স্বীকার করেছেন, যাদের সাথে আপনার ঝগড়া বা রেষারেষি হতে পারে?
- তুমি কখনও ভাবতে পারনি এমন কেউ কি তোমায় আঘাত দিয়েছে? তা কি আবার ঘটতে পারে?
- নতুন ফলোয়ার পেলে বা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পেলে, তুমি সেই ব্যক্তির প্রোফাইল যাচাই করে দেখো কি যে তার প্রোফাইলটি সত্যি কি না? তুমি তাকে ভরসা করতে পারো কি?
- তোমার কোনো ফ্রেন্ডের পোস্ট অন্য কেউ অননুমোদিত উপায়ে ব্যবহার করেছেন কি? সম্ভবত এমনটা আপনার সাথে ঘটতে পারে কি?
ডিপফেকের কারণে কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষা বিপন্ন হতে পারে এবং এর সাহায্যে অন্য কেউ তাদের আবেগ সংক্রান্ত, মানসিক ও সুনামের ক্ষতি করতে পারেন। যেক্ষেত্রে আমরা চোখে দেখে ও কানে শুনেও সাময়িক অসঙ্গতি ধরতে পারি না, সেক্ষেত্রে সফ্টওয়্যারকে ছবি বা ভিডিও কনটেন্টে যে কোনো অসঙ্গতি শনাক্ত ও চিহ্নিত করতে উন্নত করা হচ্ছে। এই প্রযুক্তিগুলো উন্নতি চলাকালীন, অল্পবয়সী ছেলেমেয়েদের মা-বাবা, তত্ত্বাবধায়ক ও প্রাপ্তবয়স্ক অন্যান্য পরিচর্যাকারীদের অবশ্যই ডিপফেকের বাস্তবতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং ডিপফেক তৈরির ও বিতরণের পরিণতি আটকাতে কাজ করতে হবে। একইসাথে, নিয়মিতভাবে আপনার কিশোর-কিশোরী সন্তানকে আশ্বস্ত করুন যে তিনি কোনো ডিপফেক সংক্রান্ত পরিস্থিতিতে পড়লে (এবং অবশ্যই, অন্য যে কোনো অনলাইন ক্ষতির সম্মুখীন হলে), সাহায্য করার জন্য আপনি সবসময় তার সাথে আছেন।
সম্পর্কিত রিসোর্স
The Jed Foundation (দ্য জেড ফাউন্ডেশন)
আরও পড়ুন